রূপক মুখার্জি
, লোহাগড়া (নড়াইল)
একে তো তীব্র তাপমাত্রা, তার ওপর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, দুই মিলে ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত নড়াইলের জনজীবন। ঘাম ঝরানো এই আবহাওয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বের হয়ে যাওয়ায় জেলাজুড়ে বাড়ছে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও খোলা আকাশের নিচে কর্মরত খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ জুন) নড়াইলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে আর্দ্রতা ৫৪ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করায় প্রকৃত অনুভূত গরম অনেক বেশি।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায় না এবং মানুষের অস্বস্তি ও ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।
মধ্য জ্যৈষ্ঠের এই তীব্র দাবদাহে চিত্রা নদী বিধৌত নড়াইল শহরের চিত্র এখন ভিন্ন। জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। সকাল ১১টার পর পরই শহরের জনবহুল এলাকাগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, ভরদুপুরে গোটা শহর যেন খাঁ খাঁ করছে।

পুরাতন বাসটার্মিনাল, ঐতিহ্যবাহী রূপগঞ্জ বাজার, হাতিরবাগান, পুলিশ লাইনস ও বাঁধাঘাট এলাকা ঘুরে পথচারী ও দোকানদারদের বারবার মুখে-মাথায় পানি দিতে এবং ঘন ঘন পানি পান করতে দেখা গেছে।
জেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রভাব টের পাচ্ছেন বলে জানান প্রবীণ সাংবাদিক ভক্ত সরকার। অন্যদিকে শ্রীবাস রায়, জমির উদ্দিনের মতো ভ্যানচালকরা জানান, তীব্র গরমে শরীর ভিজে যাচ্ছে এবং একটু পরপরই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।
ভ্যাপসা গরমের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে। নড়াইল সদর হাসপাতালসহ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে গরমজনিত অসুস্থ রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে ডায়রিয়া, বমি, পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
নড়াইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রশিদ বলেন, অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বাইরে কর্মরত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করতে হবে এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে ওরস্যালাইন খাওয়া যেতে পারে, তবে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদরোগে আক্রান্তরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত স্যালাইন খাবেন না।
দুপুরের প্রচণ্ড গরমে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা হালকা রঙের সুতি পোশাক ব্যবহার করা উচিত। মাথা ঘোরা, বমি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।