স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পরিবহন খাতের তহবিলের হিসাব না দেওয়া, শুল্ক ফাঁকি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আতিকুজ্জামান সনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে যশোরের বেনাপোল পৌর বিএনপির একাংশ। একই সঙ্গে বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে তার পদ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বেনাপোল পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল আহাদ। এ সময় পৌর বিএনপির সহসভাপতি নাসিমুল গনি বল্টুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বেনাপোল পৌর টার্মিনালে সরকারি নির্ধারিত প্রবেশ ফি ৫০ টাকা হলেও ট্রাকপ্রতি ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া নাইট গার্ড, নৈশপ্রহরী, যানজট নিরসন ও ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের নামে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে ১১০ টাকা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের নামে ৩৯০ টাকা আদায়ের অভিযোগও তোলেন তারা। এসব অর্থের যথাযথ হিসাব ও ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
তাদের দাবি, ভারতীয় ট্রাকচালকদের কাছ থেকে ৫০ টাকার রশিদ দিয়ে ১৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। অন্যান্য খরচের নামে নেওয়া হচ্ছে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগের কথা বলে বেকার যুবকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে রশিদ ও ভারতীয় ট্রাকচালকদের ভিডিও সাক্ষাৎকার আছে বলে দাবি করেন তারা।
পরিবহন খাতের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তাদের অভিযোগ, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির নির্বাচন না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি পদ ধরে রেখেছেন সনি। সমিতির তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয় না। বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির নামে সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
সনির মালিকানাধীন কাব্য এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির একটি পণ্যচালান আটকে রয়েছে। এ ছাড়া কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বলে দাবি করে তারা বলেন, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বেনাপোলের রেললাইন নির্মাণকাজে মাটি ও বালু ভরাট, পৌর ট্রাকটার্মিনাল, পৌর টোল, বাজার ও পশুহাটকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ে অনিয়ম হয়েছে। বন্দর থেকে পণ্য পাচার এবং ৫ আগস্টের পর সনির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগও তোলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সনির রাজনৈতিক পরিচয় ও বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। আব্দুল আহাদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে সনিকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায়নি। ৫ আগস্টের পর তিনি দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তার নাম পৌর বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা যশোর জেলা বিএনপির নেতাদের কাছে লিখিত আপত্তি জানান তিনি।
আব্দুল আহাদ আরও বলেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত দীর্ঘদিন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। তাকে ‘জনবিচ্ছিন্ন নেতা’ আখ্যা দিয়ে সনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ কারণে সনির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আয়োজকরা দাবি করেন, বন্দরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে ভারতীয় ট্রাকচালকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এতে কিছু চালক বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনে অনীহা প্রকাশ করছেন। এ পরিস্থিতি দুই দেশের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
সংবাদ সম্মেলনে সনির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে তার পদ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আতিকুজ্জামান সনির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।