যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

জাতিকে মুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ করেন জিয়াউর রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি

, যশোর

প্রকাশ : শনিবার, ৭ নভেম্বর,২০২৬, ১২:০১ এ এম
জাতিকে মুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ করেন জিয়াউর রহমান

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটি অবিস্মরণীয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে দিবসটিকে স্মরণ করা হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সেনাসদস্য এবং জনতা সম্মিলিতভাবে জাতিকে অস্থিরতা থেকে রক্ষা করতে জিয়াউর রহমানের হাতে দেশের শাসনভার তুলে দিয়েছিলেন। এরপর তার নেতৃত্বে একদলীয় বাকশালের অবসান ঘটে, দেশে প্রবর্তন হয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হলেও পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেনি। নতুন বন্দোবস্তে দেশকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের করদ রাষ্ট্রে পরিণত করে ক্ষমতায় চেপে বসা আওয়ামী লীগ। দেশ শাসন থেকে শুরু করে যাবতীয় নীতি-নির্ধারণ করা হতো ভারতের ইশারায়। ফলে, নব্য স্বাধীন বাংলাদেশ উন্নতির বদলে দ্রুত চরম সংকটের মধ্যে নিমজ্জিত হয়। দেশব্যাপী শুরু হয় বিরুদ্ধমত দমন, হত্যা, সন্ত্রাস, রাহাজানি, লুটতরাজ, নারী হরণের মতো ঘটনা। মানুষের মধ্যে জন্ম নেয় চরম ভীতিকর পরিস্থিতি। দেশ দ্রুতই অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত হয়। এর ফল হয়েছিল অতিকরুণ—৭৪-এর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। একই বছর সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

পদদলিত করা হয়েছিল বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত কালোবাজারি, মুনাফাখোরি, চুরি, ডাকাতি, ব্যাংকসহ বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি, হত্যাকাণ্ডের কারণে দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংঘটিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যার শিকার হন। এরও পর ৩ নভেম্বর সংঘটিত হয় সামরিক অভ্যুত্থান। আওয়ামী লীগের চরম ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের ওপর দাঁড়িয়ে ৭ নভেম্বর হয়ে উঠেছিল জনগণের স্বপ্নের সোপান।

৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান বন্দী হন। দেশের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর তরুণ সদস্য এবং সাধারণ জনগণ এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। তারা কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের প্রয়োজনে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। এই বিপ্লব নিছক একটি সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না, এটি ছিল সিপাহী-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ। এই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

বিএনপি সম্পর্কে বিশেষত জিয়াউর রহমানের প্রতি আওয়ামী লীগ লীগের যে তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্বেষ দেখা যায়, তার অন্যতম প্রধান কারণ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের ঘটনা। যখন তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তখন জিয়াউর রহমান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ঘোষণা লাখ লাখ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে।

৭ নভেম্বর গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে তাই জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন দেশের মুকুটহীন সম্রাট। তার অসীম সাহস, প্রগাঢ় দেশপ্রেম, দূরদৃষ্টি, ন্যায়নিষ্ঠা এবং সত্যানিষ্ঠা তাকে রাজনৈতিক ময়দানের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতায় পরিণত করে। তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করনে। প্রথমেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। বাকশালের কেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত উদার বাজার ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যান। অর্থনীতির দুয়ার তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ করে দেন।

জিয়াউর রহমানের আমলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো নতুনভাবে কাজ শুরু করার সুযোগ পায়। এই সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমাণে উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ প্রবেশ করে। এই অর্থ দেশে বিনিয়োগের ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে থাকে এনজিওগুলোতে। ক্ষুদ্র ঋণের বিকাশ জিয়াউর রহমানের আমলেই ঘটেছিল। তার আমলেই শুরু হয় বাংলাদেশের এখনকার বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের প্রধান খাত—পোশাক শিল্প। এছাড়া জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর যুগান্তকারী উদ্যোগও নিয়েছিলেন জিয়া। এসব নানা ধরনের কর্মসূচির কারণে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জিয়াউর রহমান বিদেশি বিনিয়োগ বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জিয়াউর রহমান রাজনীতিকেও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। তার আমলেই বাকশালে বিলুপ্ত হওয়া আওয়ামী লীগ নিজ নামে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে অন্যান্য দলের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীকেও রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেন তিনি। জিয়াউর রহমান যুদ্ধত্তোরকালে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই জাতি গঠন করতে চেয়েছিলেন। তিনি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশের কল্যাণে সবাইকে নিয়োজিত করতে চেয়েছিলেন।

দেশের রাজনীতির ইতিহাসে ৭ নভেম্বর তাই এক ঐক্যের প্রতীক। আর সেই ঐক্যের মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এক কঠিন পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী থেকে শাসন ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান নিজেকে আলাদা করে নিলেন। অস্থিরতা দমন করে, পরিস্থিতি সামলে নিয়ে দ্রুতই দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে গেলেন। স্বাধীনতার পর প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল।

তিনি একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে হতবিহ্বল জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছেন। সেই সাহসের ওপর ভর করেই জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর দেশের নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। স্বাধীন ও স্বনির্ভর দেশ গঠনের প্রকৃত সূচনা হয়েছিল ৭ নভেম্বর বিপ্লবের হাত ধরে। ১৯৭১ সালের পর সারা দেশের মানুষ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ৭ নভেম্বর।

জিয়াউর রহমান শুধু সময়ের বরপুত্রই ছিলেন না, বরং তিনি সময়কে তার কর্মের অধীন করে দেশের কালপ্রবাহকে এক যৌক্তিক ও সমৃদ্ধির পথে ধাবিত করেছিলেন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)