যশোর, বাংলাদেশ || শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

নারী

ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বাস্তবতা ও প্রতিবন্ধকতা

শাওলী সুলতানা

প্রকাশ : শনিবার, ৭ নভেম্বর,২০২৬, ১২:৩০ এ এম
ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বাস্তবতা ও প্রতিবন্ধকতা

মানবপাচারের শিকার সীমা (ছদ্ম নাম) একজন মেধাবী ও আত্মপ্রত্যয়ী তরুণী। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০১৯ সালে ভারত থেকে দেশে ফিরে আসে। কিন্তু তার জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথটি সহজ ছিল না। মানবপাচারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার গভীর প্রভাব তার পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনে পড়ে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছিল না।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় সমাজের নিষ্ঠুর আচরণ। এলাকার মানুষ তাকে দেখলে মুখ ফিরিয়ে নিতো। কেউ কেউ তাকে অপমান করতো, এমনকী তার দিকে থুতুও ছুঁড়ে দিতো। ফলে, ধীরে ধীরে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। সবসময় মনমরা হয়ে থাকতো। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা ও পরামর্শ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে সে আবার পড়াশোনা শুরু করে।

কিন্তু তার সংগ্রাম সেখানেই শেষ হয়নি। একজন শিক্ষক যখন জানতে পারেন, সীমা মানবপাচারের শিকার, তখন তিনি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। নিরাপত্তা ও মর্যাদার স্বার্থে তাকে নিজ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়। নতুন জায়গায় গিয়ে আবার পড়াশোনা শুরু, পাশাপাশি একটি চাকরি। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতার প্রভাব বারবার তার পথ আটকে দেয়। কর্মক্ষেত্রে অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার অসুবিধা এবং একপর্যায়ে চাকরিটিও হারায়।

সীমা থেমে যায়নি

বারবার ভেঙে পড়ার পরও সে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছে। এবার একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পথ তৈরির চেষ্টা। তার এই নতুন পথচলা কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তা সময়ই বলে দেবে।

তবে, তার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন ক্ষতিগ্রস্ত নারীর স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ শুধু প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে তৈরি হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আত্মবিশ্বাস, নিরাপত্তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, মানসিক সুস্থতা এবং নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম।

স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই

মানবপাচার, যৌন নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের শোষণ ও সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকে ফিরে আসা একজন নারীর জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা শুধু একটি কাজ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি নিজের জীবন সম্পর্কে ফের সিদ্ধান্ত নেওয়া, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া, পরিবার ও সমাজে মর্যাদার সঙ্গে নিজের অবস্থান তৈরি এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।

এই প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার সুযোগ একজন নারীকে শুধু আয় করার সক্ষমতা দেয় না; বরং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগও তৈরি করে।

বিভিন্ন মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, জীবিকা সৃষ্টি, উদ্যোক্তা সহায়তা, কর্মসংস্থান এবং বাজারসংযোগের সুযোগ তৈরি করছে। তবে, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, স্বাবলম্বিতার পথ সবসময় সরল বা সহজ নয়। প্রশিক্ষণ বা কাজের সুযোগ পাওয়ার পরও অনেক নারীকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়।

দক্ষতা অর্জন থেকে আয়—দীর্ঘ পথ

দক্ষতা উন্নয়ন অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ। কিন্তু কোনো একটি কাজ শেখার পরই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়ের স্থায়ী উৎসে পরিণত হয় না। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি, পণ্যের মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা, সঠিক মূল্য নির্ধারণ, হিসাব রাখা, ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাজার পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও প্রয়োজন।

অনেক ক্ষতিগ্রস্ত নারীর পূর্ববর্তী কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সীমিত থাকায় এসব বিষয় তাদের জন্য নতুন। ফলে, শুধু কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার সম্পর্কে ধারণা দেওয়াও প্রয়োজন।

প্রশিক্ষণের পর নিয়মিত পরামর্শ, হাতে-কলমে সহায়তা এবং কাজের অগ্রগতি অনুসরণ করা গেলে অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব আয়ে রূপান্তর করা সহজ হয়।

পুঁজি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা

নিজস্ব উদ্যোগ শুরু করা কিংবা একটি ছোট ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত নারীর নিজস্ব সঞ্চয়, সম্পদ বা নিরাপদ আর্থিক উৎস থাকে না। ফলে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা, কাঁচামাল সংগ্রহ কিংবা ব্যবসায় নতুন করে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ক্ষেত্রে শুধু এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান যথেষ্ট নয়। সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, আয় ও ব্যয়ের হিসাব রাখা, ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সংরক্ষণ করা এবং ব্যবসার লাভের একটি অংশ ফের বিনিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সহায়তা জরুরি।

বাজারসংযোগের অভাব

পণ্য তৈরি করলেই অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত হয় না। পণ্য বিক্রির জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য ক্রেতা, নিয়মিত বাজার এবং কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা। অনেক নারী মানসম্মত পণ্য তৈরি করলেও পর্যাপ্ত ক্রেতা বা বাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় প্রত্যাশিত আয় করতে পারেন না।

বিশেষ করে হস্তশিল্প, পাটজাত পণ্য, খাদ্যপণ্য এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের ক্ষেত্রে পণ্যের মানের পাশাপাশি আকর্ষণীয় উপস্থাপন, সঠিক মূল্য নির্ধারণ, প্রচার এবং নিয়মিত ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা প্রয়োজন।

ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের তৈরি পণ্যকে বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা এবং নিয়মিত ক্রয়াদেশের সুযোগ তৈরি করা তাদের আয়কে আরও স্থিতিশীল করতে পারে।

পরিবার ও সমাজের প্রতিবন্ধকতা

একজন নারীর অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হতে পারে। আবার পরিবারের নেতিবাচক মনোভাব বা অসহযোগিতা অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

মানবপাচার বা নির্যাতনের শিকার নারীরা অনেক সময় সামাজিক কলঙ্ক, অবমূল্যায়ন, কটূক্তি ও বৈষম্যের মুখোমুখি হন। সমাজের এমন আচরণ তাদের আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করে এবং নতুন সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, সন্তানদের যত্ন, গৃহস্থালির কাজ এবং পরিবারের অন্যান্য দায়িত্বের কারণে অনেক নারী নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে সময় দিতে পারেন না। বিশেষ করে যাদের ছোট সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য কাজ ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তাই নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার কর্মসূচিতে শুধু তার ব্যক্তিগত দক্ষতা নয়, তার পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা

দীর্ঘদিনের শোষণ, নির্যাতন বা নির্ভরশীলতার অভিজ্ঞতা একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। নতুন কাজ শুরু করা, নিজের সিদ্ধান্তে অর্থ বিনিয়োগ করা, ক্রেতার সঙ্গে আলোচনা করা কিংবা নিজের কাজের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে দ্বিধা দেখা দিতে পারে।

সীমার গল্প তারই একটি উদাহরণ। কাজ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অতীতের অভিজ্ঞতার প্রভাব তার কর্মজীবনে বারবার বাধা তৈরি করেছে।

তাই, ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের শুধু কাজ শেখানো যথেষ্ট নয়। তাদের মতামত প্রকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নিজের আয় ব্যবস্থাপনা এবং নিজের কাজের মূল্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরামর্শও নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও ট্রমা-ইনফর্মড কর্মপরিবেশ

স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মানবপাচার, যৌন নির্যাতন, সহিংসতা বা শোষণের অভিজ্ঞতা থেকে ফিরে আসা নারীদের ক্ষেত্রে কর্মপরিবেশকে ট্রমা-ইনফর্মড দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে গড়ে তোলা জরুরি।

একজন নারী তার অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে কোনোভাবেই কর্মক্ষেত্রে অসম আচরণ, হয়রানি, অবমূল্যায়ন বা শোষণের শিকার হবেন না—এটি নিশ্চিত করা অবশ্যই জরুরি। বরং কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, পেশাদারত্ব, গোপনীয়তা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

ট্রমা-ইনফর্মড সেবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত একজন নারীর অভিজ্ঞতাকে বিচার না করে বোঝা, তার নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তিনি নিজের প্রয়োজন ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কথা বলার নিরাপত্তা অনুভব করেন। একই সঙ্গে কর্মীদের আচরণ, যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহমর্মিতা, সম্মান এবং পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি।

কর্মজীবী নারীদের পারিবারিক ও প্রজনন-সংক্রান্ত বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রয়োজনীয় কর্মস্থল-সহায়তা এবং কাজ ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির সুযোগ একজন নারীর কর্মজীবনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একইসঙ্গে কর্মীদের মতামত, প্রয়োজন ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। একজন নারী যেন প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাইতে পারেন, নিজের সমস্যার কথা নিরাপদে জানাতে পারেন এবং কোনো ধরনের প্রতিশোধ, অপমান বা বৈষম্যের আশঙ্কা ছাড়াই কর্মক্ষেত্রে থাকতে পারেন- এমন ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

একটি নিরাপদ ও ট্রমা-ইনফর্মড কর্মপরিবেশ শুধু কর্মীর মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না; এটি তার আত্মবিশ্বাস, কাজের প্রতি আগ্রহ, দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মজীবনে টিকে থাকার সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে।

স্বাবলম্বিতা মানে শুধু আয় নয়

ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের স্বাবলম্বিতাকে শুধু মাসিক আয় বা কর্মসংস্থানের সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। প্রকৃত অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অর্থ হলো, একজন নারী আয় করতে পারবেন, সেই আয় সম্পর্কে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং প্রয়োজনের সময় নিজের ও পরিবারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

স্বাবলম্বিতা মানে নিজের জীবনের ওপর নিজের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া।

তাই, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সাফল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, সঞ্চয়, আর্থিক জ্ঞান, ব্যবসার ধারাবাহিকতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগের মতো বিষয়গুলোও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা

ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের স্বাবলম্বিতা কোনো এককালীন প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা বা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয় না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।

প্রশিক্ষণের পর নিয়মিত পরামর্শ, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের মান বৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাজারসংযোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একজন নারী কাজ শুরু করার পর কোথায় সমস্যায় পড়ছেন, কেন কাজ ধরে রাখতে পারছেন না এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন—এসব বিষয় নিয়মিতভাবে বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া জরুরি।

একইসঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, ক্রেতা, স্থানীয় প্রশাসন এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা তৈরি করা দরকার। কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়; এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।

গ্রহীতা নয়, সম্ভাবনার অধিকারী

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের শুধু সহায়তার গ্রহীতা হিসেবে নয়, বরং সক্ষম ব্যক্তি, দক্ষ কর্মী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে হবে।

তাদের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা তাদের পরিচয়ের একমাত্র অংশ নয়। তাদের দক্ষতা আছে, স্বপ্ন আছে, সম্ভাবনা আছে এবং নিজের জীবন নতুন করে গড়ে তোলার অধিকার আছে।

সীমার গল্পের শেষ এখনো লেখা হয়নি। হয়তো তার উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন যাত্রায় আবারও বাধা আসবে। হয়তো তাকে আবারও থামতে হবে, আবারও শুরু করতে হবে। কিন্তু প্রতিবার উঠে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করাই পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রকৃত সাফল্য।

একজন ক্ষতিগ্রস্ত নারী যখন নিজে আয় করতে পারেন, নিজের উপার্জন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নিজের দক্ষতার মূল্য বুঝতে পারেন এবং মর্যাদার সঙ্গে সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন, তখনই প্রকৃত অর্থে স্বাবলম্বিতা অর্জিত হয়।

অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা তাই শুধু জীবিকা তৈরির একটি উদ্যোগ নয়; এটি একজন নারীর আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা এবং নিজের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

লেখক: একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)