কার্যক্রম চলতে পারে চাঁচড়া ফাঁড়িতে
কাজী আশরাফুল আজাদ
, যশোর
যশোর কোতোয়ালি থানার আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য দ্রুত বর্তমান ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হবে। এজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে শহরের চাঁচড়া ফাঁড়ি থেকে। সে কারণে চলতি সপ্তাহেই কোতোয়ালি থানা চৌরাস্তা থেকে চাঁচড়া ফাঁড়িতে স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম সুবর্ণভূমিকে জানিয়েছেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই কোতোয়ালি থানার ভবন ভাঙার কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে থানার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখানে নির্মিত হবে আধুনিক কমপ্লেক্স। যার বাজেট ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। নতুন যে থানা ভবন নির্মাণ করা হবে তা হবে দৃষ্টিনন্দন এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি জানান, নতুন থানা ভবনটি আপাতত চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। তবে, এর ভিত্তি হবে ছয়তলার।
ভবন নির্মাণের সব প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী ১০ এপ্রিল থেকে বর্তমান ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হতে পারে।
যশোর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যায়ে থানার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। মিজানুর রহমান মাসুম নামে ঝিনাইদহের একজন ঠিকাদার নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে গণপূর্ত বিভাগ থেকে নতুন ভবনের নকশা চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, ১৫ শতক জমির ওপর নির্মাণ হবে ২৬ হাজার স্কয়ার ফুটের চারতলাবিশিষ্ট ভবন। কিন্তু ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলার। নতুন ভবন নির্মাণ করতে হলে পুরনো থানা ভবন এবং থানা কম্পাউন্ডে তিনতলার আবাসিক ভবনটিও ভাঙা পড়বে।
ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয়তলায় থাকবে ডিউটি অফিসারের রুম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রুম, অস্ত্রাগার, রিসিভশনসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের অফিস। তৃতীয়তলায় থাকছে নারী পুলিশ সদস্যদের ব্যারাকসহ অফিস এবং চতুর্থতলায় থাকবে পুরুষ পুলিশ সদস্যের ব্যারাক ও অফিস।
এছাড়া ভবনের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হবে পার্কিং এর জন্য। ভবনটি পুরোপুরি নির্মাণ করতে সময় লাগতে পারে দেড় থেকে দুই বছর।
যশোর গণপূর্ত বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম আরো বলেছেন, ‘ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্র্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে সাথে নিয়ে স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী নকশার অনুমোদন হয়ে গেছে। থানার বর্তমান কার্যক্রম সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরই ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন।’
এদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালি থানার বর্তমান কার্যক্রম চৌরাস্তার ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে সেখানকার কার্যক্রম চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে স্থানান্তর হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ভবন ভাঙার কাজ শুরু হবে। আর চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে চলবে কোতোয়ালি থানার মডেল ওয়ার্ডে।
ইতিমধ্যে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে থানার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযোগী করার কাজ চলছে। নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরুর আগ পর্যন্ত চাঁচড়া ফাঁড়িতে অস্থায়ী ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার কার্যক্রম চলবে।
কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেছেন, ৫ এপ্রিলের মধ্যে থানার কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তাদের কার্যক্রম চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে চলবে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেছেন, ‘কোতোয়ালি থানার নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শিঘ্রই শুরু হবে। চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অস্থায়ী ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার কার্যক্রম চলবে।Õ তবে এপ্রিলের কত তারিখ থেকে থানার কাজ চাঁচড়ায় হবে এই বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট দিন বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে নতুন ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুমের মোবাইল ফোনে ৩১ মার্চ রাতে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।