সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের আঁচ লেগেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগরেও। পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার ফের তেল বিক্রি শুরু হলে মুন্সিগঞ্জের ডেমলা ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
প্রখর তাপদাহ উপেক্ষা করে শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বিথিকা রানী বৈদ্য নামে এক নারীকে, যিনি তার ছেলে সাগর বৈদ্যের মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রোল সংগ্রহ করতে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিয়নের মোটরসাইকেল চালকদের তেল দেওয়ার কথা। তবে গত সপ্তাহে বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নে তেল বিতরণের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ওই সময় স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির হাতে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মারধরের শিকার হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার অভাবে গত পাঁচদিন জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যমতে, এই এলাকায় দুই হাজারের অধিক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল রয়েছে। দীর্ঘ পাঁচদিন তেল না পাওয়ায় চালকদের জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা বদলে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
বিথিকা রানী বৈদ্য জানান, তার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সাগর মোটরসাইকেল চালিয়ে এবং কৃষিকাজ করে সংসার চালায়। তেল না থাকায় ছেলে কাজে যেতে পারছে না, তাই বাধ্য হয়ে মা নিজেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আক্ষেপ করেন, ‘গতকালও এসে ফিরে গেছি। আজ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রখর রোদে কষ্ট হচ্ছে, তবুও তেলের আশায় আছি।’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই নিয়ম ভেঙে তেল সংগ্রহ করছেন। এছাড়া সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ফিলিং স্টেশনের সামনে রাস্তার দুই পাশে প্রায় দুই থেকে তিনশ’ মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
মুন্সীগঞ্জ ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনার কারণে সাময়িকভাবে তেল বিতরণ বন্ধ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে পুনরায় তেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত কেটে যাবে বলে আমরা আশা করছি।’
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তেলের জন্য অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।