যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ডিজেল ছাড়াই চলছে ডিজেলইঞ্জিন!

ফরিদ আহম্মেদ

, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল,২০২৬, ০১:০২ এ এম
ডিজেল ছাড়াই চলছে ডিজেলইঞ্জিন!

পোড়া লুব্রিকেন্ট (পোড়া মবিল) আর বুস্টার নামে একটি কেমিক্যাল ব্যবহার করে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হয়েছেন একজন শিক্ষক।

উদ্যোক্তা মনির হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের একজন স্কুলশিক্ষক। তিনি ডিজেলের বিকল্প এই জ্বালানি দিয়ে সেচকাজে ব্যবহৃত স্যালো মেশিন চালাতে সক্ষম হয়েছেন।

পাঁচ লিটার পোড়া মবিলের সাথে একশ’ মিলি বুস্টার মিশিয়ে ডিজেলের চেয়ে বেশিক্ষণ সেচ পাম্প চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তার এ বুস্টার হলো ম্যাথড অব অল্টারনেটিভ ডিজেল (এমএডি)। এটি ডিজেলের বিকল্প বলে তার দাবি। দীর্ঘদিন পরীক্ষার পরে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের মাঝে তিনি বিক্রি করছেন এই বুস্টার। খরচ কম এবং ডিজেল সংকটে এটি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

সরেজমিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৩৫ থেকে ৪০টি স্যালো ইঞ্জিনে এ জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে।

দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়। সেখানকার কৃষকরা বিকল্প এই জ্বালানির জন্য মনির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করছেন।

মনির হোসেন বলেন, ‘আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই কৃষকের জন্য কিছু করার আগ্রহ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করে শিক্ষকতা শুরু করি। ২০০৭ সাল থেকে শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষকদের কথা চিন্তা করে ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প জ্বালানি নিয়ে কাজ শুরু। একসময় আমার সামনে দুটি অপশন ছিল, হয় শিক্ষকতা না হয় গবেষণা। আমি শেষোক্তটি বেছে নিই। ২০১৯ সালে চীনে গিয়েছিলাম। সেখানে ডিজেল ইঞ্জিনের বিভিন্ন ফাংশন, ফুয়েল সিস্টেম এবং সাকসন ও কম্প্রেশার নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় অংশ নিই। একইসাথে সেখানকার ডিজেল ইঞ্জিনের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যাই। কাজ করি তাদের সাথে।’

‘দেশে ফিরে ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি বিষয়ে গবেষণা শুরু করি। প্রথমদিকে ৪-৫টা মৌলিক উপাদান দিয়ে একটা যৌগ তৈরি করি। সেটি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনে নানা সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু হাল ছাড়িনি।’

‘সম্প্রতি সারাদেশে ডিজেলের সংকট দেখা দিলে এর বিকল্প নিয়ে আরও সিরিয়াস হই। পরবর্তীতে আরো কিছু উপাদান যোগ করে ৮০ ভাগ সফলতা পাই। মাসখানেক আগে মোট ১২টি উপাদান যোগ করে শতভাগ সফল হই।’
তিনি বলেন, ‘এরপর আমি কৃষকদের বুঝিয়েছি আমার তৈরি যৌগের বিষয়ে। কিন্তু প্রথমে তারা বিশ্বাস করেনি। পরে যখন বাস্তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইঞ্জিন চালিয়ে দেখিয়েছি, তখন বিশ্বাস করে। বর্তমানে অর্ধশতাধিক কৃষক সেচ, মাড়াই, স্যালো ইঞ্জিন চালাতে এই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে। এখন ডিজেল ছাড়াই ডিজেল ইঞ্জিন চলছে।’
তিনি বলেন, ‘পাঁচ লিটার ডিজেল কিনতে ৫৭৫ টাকার প্রয়োজন। সেখানে এই বুস্টার ও পোড়া মবিলে খরচ ৩০০ টাকা। এটি ব্যবহারে শব্দ ও ধোঁয়া খুবই সামান্য হয়।’ 

দৌলতপুর উপজেলার মানিকদিয়াড় এলাকার কৃষক আবু বক্কর বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের এলাকায় ডিজেলের বেশ সংকট। একশ’ টাকার ডিজেল কিনতে হচ্ছে দুই থেকে তিনশ’ টাকায়। তিনি বলেন, ডিজেলের পরিবর্তে পোড়া মবিল ব্যবহারে আমাদের সাশ্রয় হবে।’

কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, এলাকায় ডিজেলচালিত কিংবা বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প দু’টো চালাতেই সমস্যা। কেননা ডিজেল সংকটের পাশাপাশি রয়েছে লোডশেডিং। মনিরের এই বুস্টারে সেচ খরচ কম।

মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী জানান, ডিজেলের অভাবে কয়েকদিন মেশিন বন্ধ ছিল। আজ এই বুস্টার ও পোড়া মবিল দিয়ে আমি মেশিন চালাচ্ছি। পোড়া মবিল দিয়ে ডিজেল ইঞ্জিন চলে- জানা ছিল না।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেহেনা পারভীন বলেন, কৃষকদের সেচকাজে পানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার উপরে জোর দিয়েছি। কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। কিছু কৃষক ডিজেলের পরিবর্তে পোড়া মবিল দিয়ে স্যালো ইঞ্জিনে চালাচ্ছে বলে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে, কৃষকদের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভুইঁয়া।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র গাজীপুরের ফার্ম মেশিনারি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নুরুল আমিন বলেন, ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিনে অন্য কোনো জ্বালানি দিয়ে চলার কথা না। কৃষকরা কীভাবে চালাচ্ছেন, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)