সম্পাদকীয়
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একটি আবাসিক হলের খাবার খেয়ে অন্তত ৭০ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে বিদ্যমান বিতর্ককে আরও উসকে দেবে বলে ধারণা করা সঙ্গত হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে আসছেন যে, তাদের জন্য সরবরাহ করা খাবার অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তরফ থেকে সেভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এবার যবিপ্রবির ঘটনার পর বিষয়টির দিকে সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ বাড়ানোর সুযোগ করে দিলো।
যবিপ্রবির ঘটনায় উদ্বেগজনক একটি দিক হলো, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে একজন নারী ডাক্তার নাকি বিষয়টির গুরুত্বই দেননি। তিনি ছাত্রীদের প্রয়োজনের সময় ক্যাম্পাসে যাওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেনি। আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন, এবং সেখানকার দায়িত্বই তার কাছে মুখ্য। এটি তিনি করতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যাদের নিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের যদি জরুরি মুহূর্তে খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখ ও হতাশার আর কিছুই হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এই অভিযোগকে গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে তদন্ত করা।
আমরা মনে করি, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দেরি না করে কার্যকর কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। যেমন, হলের খাবারের উৎস ও মান পরীক্ষায় স্বচ্ছ ও স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা, ডাক্তারদের দায়িত্বে অবহেলা ও চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতিটি হলে জরুরি চিকিৎসার জন্য সর্বক্ষণিক চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের অন্যত্র চাকরির অনুমতি দেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে আইনি ও নীতিগত স্পষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বের মধ্যে অগ্রগণ্য। যবিপ্রবির এই ঘটনা যেন সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ঘটনা ঘটলে তার দায় কাউকে এড়াতে দেওয়া যাবে না।