যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২০ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

সুন্দরবনে গুলি করে জেলে হত্যা: এটা শাসন নয়, সন্ত্রাস

প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
সুন্দরবনে গুলি করে জেলে হত্যা: এটা শাসন নয়, সন্ত্রাস

সুন্দরবন বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত এক অনন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ এই বনকে রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালনের নামে যদি নিরস্ত্র, দরিদ্র ও বৈধ পাসধারী একজন জেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়, তাহলে তা রক্ষার নামে ধ্বংসেরই নামান্তর। ১৮ মে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে বনকর্মীর গুলিতে আমিনুর রহমান গাজী নামে এক জেলের নিহত হওয়ার ঘটনা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং চরম উদ্বেগজনক।

সুবর্ণভূমিতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, আমিনুর রহমান বনবিভাগের পাস নিয়েই সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। কাঁকড়া আহরণের সময় স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের সদস্যরা আমিনুরদের নৌকা থামাতে নির্দেশ দেয়। সহযাত্রীদের দাবি, নির্দেশ মানতে ‘দেরি’ হওয়ায় বনকর্মীরা গুলি চালায় এবং এরই শিকার হন এই জেলে। অথচ বন আইন ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনায় কোথাও ‘একটু দেরি হওয়ার’ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নয়। বনকর্মী তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ও কর্তৃত্বের গুরুতর অপব্যবহার করেছেন। এটা আইনের শাসন নয়; এটি সন্ত্রাস।

বন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে আমরা সবাই। সুন্দরবনে চোরাশিকারি, কাঠ ও জ্বালানি সংগ্রহের অবৈধ চক্র আছে- এটাও সত্য। কিন্তু সেই অপরাধের মাত্রা যাচাই করে শাস্তি আইনানুগ হতে হবে। আইনের আড়ালে ঢাকা এই গুলি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন দরিদ্র জেলে, যার অপরাধ সামান্য বিলম্ব, তাকে বধ করা বর্বরতা বই কিছু নয়।

ঘটনার পর বনজীবীদের ক্ষোভ স্বাভাবিক। তারা সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। আমরা আইন নিজ হাতে তোলার এই প্রবণতার নিন্দা জানাই। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, কেন তারা এমন পথ বেছে নিলেন? নিহতের লাশ লোকালয়ে আসার পর যদি বনবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির আশ্বাস দিতেন, তবে হয়তো এ প্রতিক্রিয়া এড়ানো যেত। কিন্তু তারা তা করেননি। বরং সাতক্ষীরা রেঞ্জের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এখনো কেউ তার কাছে অভিযোগ করেনি’। বিষয়টি হুবহু পুলিশের চিরচেনা দায়সারা মনোভাবের মতো। একজন নিহত হয়েছেন, অথচ কর্মকর্তা অপেক্ষা করছেন অভিযোগ দায়েরের! কী নির্মম হরিহাস! এটা হলো দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া, ব্যর্থতা বা অপরাধ স্বীকার না করার নির্মম উদাহরণ।

আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট বলতে চাই, শুধু বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসে বনজীবীদের হামলার জন্য ব্যবস্থা নিলে চলবে না, গুলি চালানো বনকর্মী ও তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। যত দিন ক্ষমতার অপব্যবহারকারীরা রেহাই পাবেন, তত দিন এ জাতীয় ঘটনা বন্ধ হবে না। বন রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা।

সুন্দরবন বাঁচাতে গিয়ে যদি তার প্রান্তিক মানুষের জীবন অনিশ্চিত করে তোলা হয়, তাহলে বন বাঁচানোর যে যুক্তি, তা দাঁড়ায় না। দায়ী সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে বনের সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনায় বলতে হবে, তারা সন্ত্রাসী নয়, রক্ষক। তাদের হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে আইন মানাতে, মানুষ খুন করতে নয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)