স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এবার এশিয়া থেকে একাধিক দেশ অংশ নিচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্যে মাঠে নামবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, অস্ট্রেলিয়া, উজবেকিস্তান, ইরাক, সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডান। এশিয়ার ফুটবল এখন আর কেবল অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দ্বিতীয় রাউন্ড এবং তারও বেশি দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কয়েকটি দল।
এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে জাপান। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা এশীয় দেশটির বেশ কয়েকজন ফুটবলার ইউরোপের নামকরা ক্লাবে খেলেন। সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুতগতির ফুটবল তাদের মূল শক্তি। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু খেলোয়াড়ের চোট এবং আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার অন্যতম দাবিদার জাপান।
দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়ার অন্যতম সফল ফুটবল শক্তি। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তারা ইউরোপীয় ফুটবল শক্তি চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে। অধিনায়ক সন হিউং মিনের নেতৃত্বে দলটি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক ফুটবলের জন্য পরিচিত। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা এবং মানসিক দৃঢ়তা তাদের বাড়তি সুবিধা। তবে কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দলটির দুর্বলতা হতে পারে।
যুদ্ধ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া দলটির আক্রমণভাগ বেশ কার্যকর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভাব তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবুও গ্রুপ পর্ব থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য হলেও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দল। শক্তিশালী রক্ষণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ দলীয় ফুটবল তাদের বড় সম্পদ। যদিও আক্রমণভাগে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও অনুকূল গ্রুপে থাকলে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছানোর সামর্থ্য রাখে অজিরা।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া উজবেকিস্তান এবারের অন্যতম চমক। শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটি ইতোমধ্যে এশিয়ান ফুটবলে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতার অভাব তাদের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
চার দশক পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাক বড় কোনো তারকাবিহীন হলেও দলগত সংহতিকে শক্তি হিসেবে দেখছে। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের লড়াই সহজ হবে না, তবে চমক দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডানও এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদেশি কোচ এবং আন্তর্জাতিক মানের লিগ গড়ে তোলার ফলে দেশগুলো তাদের ফুটবলের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপে এশিয়ার ফুটবল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও অস্ট্রেলিয়া নকআউট পর্বে যাওয়ার শক্তিশালী দাবিদার হলেও উজবেকিস্তান, ইরাক, সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডানের মতো দলগুলোও চমক দেখানোর অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে এবার এশিয়ার ফুটবল কতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।