যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কৃষি দপ্তরের জমি দখল করে পৌরসভার গ্যারেজ নির্মাণ

আনোয়ার হোসেন

, মণিরামপুর (যশোর)

প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুলাই,২০২৬, ১২:০০ পিএম
কৃষি দপ্তরের জমি দখল করে পৌরসভার গ্যারেজ নির্মাণ

কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের জমি দখলে নিয়ে মণিরামপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কৃষি দপ্তরের সাথে কোনও পরামর্শ না করে এক মাস আগে গ্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে জানতে পেরে কৃষি দপ্তর আপত্তি জানালে কয়েকদিন কাজ বন্ধ রেখে আবারও নির্মাণ কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি উপজেলা কৃষি দপ্তর তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তা জেলা প্রশাসককে পর্যন্ত গড়ায়। এরপর সমাধান হওয়ার কথা বলা হলেও এখনো নিজেদের জমি বুঝে পায়নি উপজেলা কৃষি দপ্তর।

সরেজমিন পৌরসভা চত্বর ঘুরে নতুন নির্মিত গ্যারেজে কয়েকটি পরিবহন রাখতে দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের দেওয়া তথ্যমত, দুর্গাপুর মৌজায় মণিরামপুর পৌরসভা দপ্তরের পশ্চিমপাশ লাগোয়া কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের নিজস্ব ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমির উপর একতলার দুটি ভবন ছিল। যার একটি ভবন ব্যবহৃত হতো পৌর এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার দপ্তর ও সিড স্টোর হিসেবে।

অন্য ভবনটি ছিল ওই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বাসভবন। পরে ভবন দুটি পরিত্যক্ত হওয়ায় তা স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার করতো উপজেলা কৃষি দপ্তর।

উপজেলা কৃষি দপ্তর বলছে, পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন হওয়ায় ২০২২ সালে প্রথম তাদের জমি দখলে নেওয়া শুরু করে পৌরসভা। তৎকালীন পৌর মেয়র মাহমুদুল হাসান কৃষি দপ্তরকে না জানিয়ে ভবন দুটি গুঁড়িয়ে দেন। তখন টের পেয়ে কৃষি দপ্তর আপত্তি জানায়। এরপর বিষয়টি গড়ায় তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য পর্যন্ত।

তখন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দাবি করে, পৌরসভার কার্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মিত হবে। কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ জমি না হলে ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। ওই সময় পৌর মেয়র নিজেদের জমি থেকে কৃষি দপ্তরকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর বলছে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো পৌরসভা চত্বরসহ তাদের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি প্রাচীর নির্মাণ করে ঘিরে নেয়। কোনও সমাধান ছাড়াই এভাবে বিষয়টি চলতে থাকে। এরপর একমাস আগে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কৃষি দপ্তরের অবশিষ্ট ৫ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে তাতে গ্যারেজ নির্মাণকাজ শুরু করে। বিষয়টি জানার পর বাধা দেওয়া হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ তা কানে নেয়নি।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, আমাদের না জানিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের মাধ্যমে গ্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু করে। পাইলিংয়ের কাজ শেষ হলে বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি পৌরসভা প্রশাসক সম্রাট হোসেনকে বললে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকে। এরপর আবার তারা কাজ শুরু করে গ্যারেজ নির্মাণ সম্পন্ন করেছে।

মাহমুদা আক্তার বলেন, পৌরসভা দখলে নেওয়া জমির খাজনা কৃষি দপ্তর নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল আমরা ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমির জন্য ৪১৩ টাকা খাজনা পরিশোধ করেছি।

তিনি বলেন, জমি দখলের বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেনকে জানিয়েছি।

মণিরামপুর পৌরসভা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার কৃষি দপ্তরের জমিতে গ্যারেজ নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একমাস আগে গ্যারেজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। সম্প্রতি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রশাসক স্যার জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছেন।

মণিরামপুর পৌরসভার প্রশাসক ইউএনও সম্রাট হোসেন বর্তমানে ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার স্থানে প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন। একইসাথে মাহির দায়ান পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও।

এ বিষয়ে মাহির দায়ান বলেন, ‘কৃষি দপ্তরের জমিতে পৌরসভার গ্যারেজ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালকের সাথে জেলা প্রশাসকের কথা হয়েছে জানতে পেরেছি। শুনেছি, পৌর এলাকার অন্য স্থান থেকে সমপরিমাণ খাস জমি কৃষি দপ্তরকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে, কৃষি দপ্তরকে জমি বু দেওয়ার ব্যাপারে আমি কোনও নির্দেশনা পাইনি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি গত মিটিংয়ে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তিনি সমাধান দিতে মণিরামপুরের ইউএনও এবং এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা এখনো জমি বুঝে পাইনি।’

এ বিষয়ে জানতে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানকে দুই দিনে একাধিকবার মোবাইলে কল করা হয়েছে। তিনি রিসিভ করেননি। পরে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)