ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় মোহন শেখ হত্যা মামলায় আশরাফুল ইসলাম নামের এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫এপ্রিল) রাতে তাকে উপজেলার বড়দা এলাকা থেকে থানায় আনা হয়। রোববার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি বর্তমানে ঝিনাইদহ কারাগারে রয়েছে। আশরাফুল ইসলামের নাম ওই মামলার এজাহারে ছিল না। এদিকে সোমবার আশরাফুলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।
মোহন শেখ হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, আশরাফুল ইসলাম তার বাবার হত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল এমন তথ্য তিনি পাননি। যে কারণে সোমবার তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে একটি লিখিত দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, মনোহরপুর ইউনিয়নে বর্তমানে সরকার দলের দুইটি পক্ষ রয়েছে। যার একটির নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল হোসেন ও তার ছেলে শৈলকূপা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবুল বাশার তরিকুল সাদাত, অপরপক্ষে আছেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন চৌধুরী। তারা মাধবপুর গ্রামে দুইটি সামাজিক দলে বিভক্ত। বেশ কিছু দিন থেকে নানাবিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ছোট-ছোট ঘটনা ঘটে চলছিল। বৃহস্পতিবার দুইপক্ষের সংঘর্ষে জাহিদ হোসেন চৌধুরীর সমর্থক মোহন শেখের মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা খাতুন জানান, তার স্বামী সাংবাদিকতা করেন। সংঘর্ষে যিনি মারা গেছেন তিনি তার প্রতিবেশী দাদা শ্বশুর। তিনি আরো জানান, শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে তিনি বাবার বাড়ি শৈলকূপার ব্রাহিমপুর ছিলেন। আশরাফুলও রাতে সেখানে অবস্থান করছিলেন। রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুটোফোনে তাকে পাশ্ববর্তী বড়দা সেতুর কাছে আসতে বলা হয়। আশরাফুল তখন সেখানে গেলে ওসি ডাকছেন এমন কথা বলে শৈলকূপা থানায় নেওয়া হয়। রবিবার দুপুরে তাকে মোহন শেখ হত্যা মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
তার দাবি বিচার চাওয়া, পত্রিকায় সংবাদ লেখাসহ নানা কারণে প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়ে আশরাফুলকে হত্যা মামলায় কারাগারে দিয়েছেন।
এবিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির মোল্লা কে কয়েকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শৈলকুপা সার্কেলেরর সহকারী পুলিশ সুপার মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এজাহারে আশরাফুলের নাম নেই। তবে তদন্তে পেয়ে তাকে এরেস্ট করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২৩এপ্রিল) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬০) নামের একজন কৃষক নিহত হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত মতলেব শেখের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত মোহম শেখের ছেলে হারুন-অর রশীদ বাদি হয়ে ৪২ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে শৈলকূপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় এজাহার নামীয় একজনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। যার অপরজন হচ্ছেন সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম।