দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া এলাকায় একটি মাছের ঘের থেকে হায়াত আলী (৫০) নামে এক কর্মচারীর পুড়ে যাওয়া ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া ইউনিয়নের একটি ঘের থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
হতভাগ্য হায়াত আলী পারুলিয়ার খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের ঘেরের কর্মচারী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে হায়াত লাশ বাড়িতে এনে তড়িঘড়ি দাফনের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন নিহতের নাক-মুখ ফেটে যাওয়া এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া ছেলা ও ঝলসানো অবস্থা দেখতে পান।
পুরো বিষয়টি রহস্যময় মনে হলে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে ওই রাতেই পুলিশ এসে লাশ দেবহাটা থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় অনেকের ধারণা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিংবা অ্যাসিড নিক্ষেপের কারণে শরীর ঝলসানোর এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তবে পরিবার-সদস্যরা বলছেন, হায়াত আলী স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার ঘেরের পুকুরের পাকা ঘাটে গোসল করার সময় স্ট্রোক করে পড়ে যাওয়ায় তার নাক-মুখ ফেটে গেছে।
গায়ের চামড়া উঠে যাওয়ার ব্যাখ্যায় পরিবার জানায়, হায়াত আলী যে ঘেরে থাকতেন সেটি অনেক ভেতরে অবস্থিত। সেখানে খাটিয়া নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই মাছ ধরার নেটের ভেতরে লাশ ঢুকিয়ে বাঁশ বেঁধে কাঁধে করে রাস্তার পাশে আনা হয়। নেটের ঘর্ষণের কারণেই মূলত শরীরের চামড়া উঠে গেছে।
এ বিষয়ে ঘের মালিক ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'আমার ঘেরে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ওই কর্মচারী স্ট্রোকজনিত কারণেই মারা গেছেন।'
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।