ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, ডাকবাংলা সড়কের ৮৫০ মিটার অংশে পিচের রাস্তা তুলে দুই স্তরের ইটের সলিং নির্মাণে প্রায় ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে সাময়িক সংস্কারে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ তুলেছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা।
ব্রিটিশ আমল থেকে গুড়, মাটির কলস, ডালজাতীয় শস্য ও পাট বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী কালীগঞ্জ ডাকবাংলা সড়ক। একসময় কাঁচা এই সড়কে ঘোড়ার গাড়ি ও গরুর গাড়িই ছিল প্রধান বাহন। পরে ইটের সলিং এবং পরবর্তীতে ২২ ফুট প্রশস্ত পিচের সড়কে উন্নীত হওয়ায় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সম্প্রতি কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে আলাইপুর পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ মিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় সেখানে পিচ তুলে আবার ইটের সলিং নির্মাণ করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, ইটের সলিং নির্মাণ এবং সড়কের দুই পাশ মাটি দিয়ে ভরাটের এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৮ লাখ টাকা। ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গামা কনস্ট্রাকশন।
স্থানীয় থ্রিহুইলার চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই সড়কে বিভিন্ন যানবাহন চালাচ্ছি। কাচা রাস্তার সময়ও দেখেছি। পরে ইটের সলিং ও পিচের রাস্তা হওয়ায় চলাচলে সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু এখন পিচ তুলে আবার সলিং করা হচ্ছে দেখে মনে হচ্ছে আমরা আবার আগের যুগে ফিরে যাচ্ছি।’
আরেক চালক আলমগীর হোসেন বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষাকালে এসব গর্ত দুর্ঘটনার কারণ হয়। কিন্তু সলিংয়ের পরিবর্তে পিচ দিয়ে পুটিং বা স্থায়ী সংস্কার করা হলে বেশি উপকার হতো। ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কাজ সরকারি অর্থের অপচয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গামা কনস্ট্রাকশনের মালিক গোলাপ হোসেন দাবি করেন, সরকারি সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। সওজের প্রতিনিধিরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, বর্ষাকালে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছিল। পাশাপাশি গর্তে পানি জমে সড়কের আরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই আপাতত সলিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পিএমপি সড়ক মেরামত প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে টেন্ডারের মাধ্যমে স্থায়ী কাজ করা হবে।