লিওনেল মেসির নাম উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বল পায়ে জাদু, নিখুঁত ড্রিবলিং আর গোলের পর শান্ত উদযাপন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বড় একটি অংশজুড়ে তিনি ছিলেন এমন এক ফুটবলার, যিনি নিজের উত্তর দিতেন মূলত পারফরম্যান্স দিয়ে। রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ানো বা মাঠে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ- এসব ছিল তার স্বভাবের বাইরে।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে মেসির নেতৃত্বের ধরনও। বিশেষ করে ২০১৯ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক হিসেবে তাকে অনেক বেশি সরব, দৃঢ় এবং সতীর্থদের পক্ষে দাঁড়াতে দেখা গেছে। তিনি অযথা বিতর্কে জড়ান না, কিন্তু প্রয়োজন মনে করলে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা গেল সেই পরিবর্তিত মেসিকে। এক পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনাকারী পর্তুগিজ রেফারির সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের বক্তব্যের যথাযথ সাড়া না পেয়ে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি তোমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলছি, তুমি আমাকে সম্মান দিচ্ছো না। আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলো।’
এই বাক্যগুলো যেন নতুন মেসির পরিচয় বহন করে। এটি শুধু ক্ষোভের প্রকাশ নয়, বরং একজন অধিনায়কের আত্মসম্মান এবং নিজের দলের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
ম্যাচটি ছিল শারীরিক লড়াইয়ে ভরপুর। রেফারি একটি লাল কার্ডসহ মোট পাঁচটি কার্ড দেখান, যার মধ্যে তিনটি পান আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। এমন পরিস্থিতিতে মেসির প্রতিবাদকে অনেকেই দেখছেন দলের স্বার্থ রক্ষায় অধিনায়কের স্বাভাবিক ভূমিকা হিসেবে।
মজার বিষয় হলো, তার খেলার ধরন যেমন পরিণত হয়েছে, তেমনি বদলেছে নেতৃত্বের ভাষাও। একসময়ের নীরব মেসি আজও বিনয়ী, কিন্তু আর নীরব নন। যখন মনে করেন সম্মান বা ন্যায্যতার প্রশ্ন এসেছে, তখন তিনি নিজের কণ্ঠস্বর তুলতে দ্বিধা করেন না।
এটাই হয়তো ক্যারিয়ারের শেষভাগের মেসির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। তিনি শুধু বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার নন, প্রয়োজনে নিজের দল এবং নিজের মর্যাদার জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো একজন পরিপূর্ণ অধিনায়কও।