স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা জুড বেলিংহাম এবার গড়লেন এক ঐতিহাসিক কীর্তি। মাত্র ২৩ বছর ১২ দিন বয়সে টানা দুটি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিরল রেকর্ডের মালিক হয়েছেন ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স খুব কম ফুটবলারই দেখাতে পেরেছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো বেলিংহামের নাম।
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে একই অর্জন করলেন বেলিংহাম।
শুধু তাই নয়, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের টানা দুই নকআউট ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার বিরল রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন ইংলিশ এই তারকা।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বেলিংহাম ছিলেন ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। তবে নকআউট পর্বে এসে তিনি যেন আরও বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছেন। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়ে তোলা, বক্সে ঢুকে গোল করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের নেতৃত্ব দেওয়া- সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন পূর্ণাঙ্গ একজন ম্যাচজয়ী ফুটবলার হিসেবে।
বয়স মাত্র ২৩ হলেও মাঠে তার পরিপক্বতা, আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অভিজ্ঞ ফুটবলারের মতো। বড় ম্যাচের চাপ সামলে যেভাবে ধারাবাহিকভাবে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে অনেকেই তাকে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক এবং আগামী এক দশকের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেলে ও ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিদের পাশে নাম লেখা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই গর্বের বিষয়। আর সেই তালিকায় এত অল্প বয়সে নিজের নাম তুলে বেলিংহাম জানিয়ে দিলেন, তিনি শুধু বর্তমানের তারকা নন, বিশ্ব ফুটবলের আগামী দিনের অন্যতম বড় মুখ।
ইংল্যান্ডের সমর্থকরাও এখন স্বপ্ন দেখছেন, বেলিংহামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের হাত ধরেই বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে ফিরতে পারে। বড় মঞ্চে তিনি যে নিজের সেরাটা তুলে ধরতে জানেন, চলতি বিশ্বকাপে সেটিই প্রমাণ করে চলেছেন এই অসাধারণ তরুণ মিডফিল্ডার।