স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
‘যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য বই মিথ্যা বলিব না’, এই শপথ নিয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিতে উঠে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মাসুদ আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে শেখানোর অভিযোগে একই মামলায় রাসিব হাসান রনি ও সাজ্জাদুল আলম মনাকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মুসলিম আইনের হক শুফা-সংক্রান্ত একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণকালে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বিবাদীপক্ষের আইনজীবীর জেরার মুখে মাসুদ আলী স্বীকার করেন, তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আদালতকে জানান, তেঘরিয়া গ্রামের রাসিব হাসান রনি ও সাজ্জাদুল আলম মনা তাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে শিখিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর বিচারক মো. মতিউর রহমান তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দেন। পরে সদর আমলী আদালতে মামলাটি সিআর মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
আদালতে উপস্থিত থাকায় মাসুদ আলী ও রাসিব হাসান রনিকে আটক দেখিয়ে নিম্ন আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম ১০০ টাকার বন্ডে দুজনের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মাসুদ আলীকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্ররোচিত করার অভিযোগে সাজ্জাদুল আলম মনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সঞ্জয় কুমার।
আদালত সূত্র আরও জানায়, হক শুফা হলো মুসলিম আইনে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে শরিক বা প্রতিবেশীর অগ্রক্রয়ের অধিকার। কোনো সম্পত্তি বিক্রির সময় ওই অধিকারীকে বাদ দিয়ে অন্য কারও কাছে বেচলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রক্রয়ের অধিকার দাবি করতে পারেন।
মুসলিম আইনে এ ধরনের ক্রয় অধিকারকে হক শুফা বা শুফার অধিকার বলা হয়।