ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
সুবর্ণভূমি-
ছবি:
ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শান্তনা খাতুন শহরের পবহাটি গ্রামের আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ওই দিন রাতে প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের খাটের নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২৭ দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত শান্তনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিশু সাইমার বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা খুশি নই। ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা-পয়সার ক্ষতিপূরণ আমি কিছুই নেব না। আমি আমার সন্তান হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু সঠিক বিচার পাইনি, তাই উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এ-পিপি) অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি শান্তনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।