স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
রাজকীয় পোশাকে নয়, বরং শিক্ষকতার পরম মমতায় রাজকীয়ভাবে বিদায় নিলেন এক প্রিয় গুরুজন। যশোর মুসলিম একাডেমী স্কুলের দীর্ঘদিনের সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে তারই প্রিয় বিদ্যাপীঠ ও স্নেহের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলের হলরুমে বিদায়ী এই শিক্ষকের সম্মানে আয়োজন করা হয় এক সংবর্ধনা সভার। বর্তমান শিক্ষার্থীদের চোখের পানি আর প্রাক্তনদের শ্রদ্ধার্ঘে ভারী হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক পল্লব কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘ কর্মজীবনের একনিষ্ঠতার কথা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক তপন তরফদার, সহকারী শিক্ষক এইচ এম ইকবাল, তৈয়েবা খাতুন, শিক্ষক প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান ও সহকারী শিক্ষক সালমা আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক রাজু আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে বিদায়ী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর এই স্কুলকে পরিবার মনে করেছি। আজ বিদায়বেলায় সহকর্মী ও স্নেহের শিক্ষার্থীদের এই সম্মান ও ভালোবাসা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে সার্থকতা আর কিছু হতে পারে না।
প্রধান শিক্ষক পল্লব কান্তি ঘোষ বলেন, জাহাঙ্গীর আলম স্যার ছিলেন আমাদের স্কুলের এক অভিভাবকতুল্য স্তম্ভ। পরম মমতায় হাজারো শিক্ষার্থীকে তিনি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর মতো নীতিবান শিক্ষকের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করে প্রাক্তন শিক্ষার্থী নওশীন আফিয়া বলেন, স্যার ক্লাসে শুধু পড়াতেন না, কীভাবে ভালো মানুষ হতে হয় সেই শিক্ষা দিতেন। শাসনের আড়ালে ছিল বাবার মতো স্নেহ। স্যারের রেখে যাওয়া আদর্শ আমরা সারাজীবন ধারণ করবো।
এছাড়াও স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ধরেন সাবেক শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন, আবু বক্কর। তাদের প্রতিটি বাক্যে ঝরে পড়েছে এক স্নেহময় অভিভাবককে হারানোর কাতরতা। আলোচনা পর্বশেষে স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রাক্তণ ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ভালোবাসার উপহার।
সংবর্ধনার মূল চমক অপেক্ষা করছিল অনুষ্ঠানের শেষে। স্কুলের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিল সুসজ্জিত একটি ঘোড়ার গাড়ি। বিদায়ী উপহার ও ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমকে সেই গাড়িতে বসিয়ে পুরো পথ সম্মান জানিয়ে ধর্মতলা কদমতলা এলাকায় তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ১১ মে যশোর মুসলিম একাডেমী স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন জাহাঙ্গীর আলম। প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদানের পূর্বে তিনি ইস্পাহানি গ্রুপের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় পর, ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন।