বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী বাজারে সকাল থেকেই ব্যস্ততা। এক পাশে কয়েকজন নারী দেশি মাছ কাটছেন, অন্য পাশে চলছে ধোয়া, প্যাকেটজাত ও সংরক্ষণের কাজ।
বাজারে আসা ক্রেতারা কেউ সরাসরি মাছ কিনে নিচ্ছেন, আবার অনলাইনে অর্ডার করা মাছ মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে পৌঁছে যাচ্ছে যশোর শহরের বিভিন্ন বাড়িতে। পুরো উদ্যোগটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলের শিক্ষার্থী রাজ বিশ্বাস।
যশোরের বিসিএমসি কলেজের ডিপ্লোমা কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজ বিশ্বাসের বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার কুচলিয়া গ্রামে। তিনি তাপস বিশ্বাসের ছেলে।
উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থেকেই তিন মাস আগে রান্নার উপযোগী (রেডি টু কুক) মাছ প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রির উদ্যোগ নেন। তার বিক্রয়কেন্দ্র অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী বাজারে।
‘মাতৃ ফিস অ্যান্ড প্রসেসিং জোন’ নামে ফেসবুক পেজ এবং ফোনে অর্ডারের মাধ্যমে যশোর শহরের ক্রেতাদের কাছে মাছ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা দেশি মাছ কেটে ধোয়ার পর প্যাকেটজাত করে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এরপর অর্ডার অনুযায়ী তা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বিক্রয়কেন্দ্রের নিয়মিত ক্রেতা হরিনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘দেশি ছোট মাছ কিনে কাটার মতো লোকজন বাড়িতে নেই। তাই আমি নিয়মিত এখান থেকে প্রসেসিং করা মাছ কিনি। এখানকার মাছের মান ভালো, আবার দামও সাশ্রয়ী।’
নিজের উদ্যোগের গল্প বলতে গিয়ে রাজ বিশ্বাস জানান, সুন্দলী বাজারে তার বাবার পাইকারি মাছের আড়ত রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই মাছের ব্যবসার সঙ্গে পরিচয়।
পড়াশোনার পাশাপাশি আড়তের মাছ রান্নার উপযোগী করে অনলাইন ও সরাসরি বিক্রির পরিকল্পনা থেকেই এই উদ্যোগের সূচনা।
বর্তমানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি অর্ডার পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। যশোর শহরে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেলিভারির কাজে নিয়োজিত করেছেন। তারা মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে ক্রেতাদের বাড়িতে মাছ পৌঁছে দেন।
এই উদ্যোগের শুরুতে পিকেএসএফের অর্থায়নে নবলোক পরিষদ রাজ বিশ্বাসকে মাছ প্রসেসিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং ওজন যন্ত্র, মাছ কাটার টেবিল, রেফ্রিজারেটরসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেছে। ভবিষ্যতে বড় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
নবলোক পরিষদের মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ কুমার মোস্তফী বলেন, মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাজ বিশ্বাসের মতো নতুন উদ্যোক্তাদেরও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, রান্নার উপযোগী করে মাছ প্রক্রিয়াজাত করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া একটি ভালো উদ্যোগ। তবে মাছ কাটার স্থান, প্যাকেজিং ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের তদারকি রয়েছে।
তিনি জানান, যশোর জেলায় বর্তমানে রান্নার উপযোগী (রেডি টু কুক) ও খাওয়ার উপযোগী (রেডি টু ইট) খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।