যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ইসলাম যেসব খেলাধুলায় উৎসাহ দেয়

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুন,২০২৬, ১০:৫৯ এ এম
আপডেট : রবিবার, ২১ জুন,২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ইসলাম যেসব খেলাধুলায় উৎসাহ দেয়

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এতে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সব বিষয়ের সুন্দর ও সুষ্ঠু সমাধান রয়েছে। মানবজীবনের আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা ও সক্ষমতার প্রতিও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শে আমরা এমন কিছু খেলাধুলা, শারীরিক কসরত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের দৃষ্টান্ত দেখতে পাই, যা আজও সর্বজনীন এবং অনুসরণীয়। প্রধানত এমন ৬টি খেলাধুলা ও শারীরিক অনুশীলনের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো, যেগুলোতে ইসলাম বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে:

১. তীরন্দাজি ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে তীরন্দাজি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ। রসুলুল্লাহ (সা.) তীর নিক্ষেপ শেখার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন এবং এটিকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তীর নিক্ষেপ করো এবং অশ্বারোহণ করো; তবে তোমাদের তীর নিক্ষেপ করাই আমার কাছে বেশি প্রিয়।’ (মুসলিম: ১৯১৮)

২. ঘোড়দৌড় তৎকালীন যুগে ঘোড়া ছিল যাতায়াতের প্রধান বাহন এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির অন্যতম মাধ্যম। রসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ (সা.) প্রশিক্ষিত ঘোড়াগুলোর মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন।’ (বুখারি: ২৮৭০)

৩. সাঁতার শিক্ষা সাঁতার কেবল একটি চমৎকার শারীরিক ব্যায়ামই নয়, বরং এটি একটি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা। ইসলাম মানুষকে যেকোনো উপকারী জ্ঞান ও জীবনমুখী প্রশিক্ষণ অর্জনে উৎসাহিত করে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর স্মরণবিহীন সব কিছুই অনর্থক বা বিনোদন মাত্র, তবে চারটি বিষয় ব্যতীত... তার মধ্যে একটি হলো সাঁতার শিক্ষা।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৮৯৪০)

৪. দৌড় প্রতিযোগিতা রসুলুল্লাহ (সা.) পরিবারে আনন্দ, প্রফুল্লতা ও সৌহার্দ্য সৃষ্টির জন্য বৈধ বিনোদনের চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ (সা.) একবার আমার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন, তখন আমি (ওজনে হালকা থাকায়) তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলাম।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৫৭৮)

৫. মল্লযুদ্ধ বা কুস্তি শারীরিক শক্তি, সহনশীলতা ও আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে কুস্তির গুরুত্ব অনেক। সীরাতগ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, নবীজি (সা.) মক্কার তৎকালীন প্রসিদ্ধ ও অপরাজেয় মল্লযোদ্ধা রুকানাকে কুস্তিতে পরপর কয়েকবার পরাজিত করেছিলেন। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, একজন মুমিনের শারীরিক শক্তিও আল্লাহর নেয়ামত। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।’ (মুসলিম: ২৬৬৪)

৬. লক্ষ্যভেদ যেসব খেলাধুলা মানুষের মানসিক একাগ্রতা, মনোযোগ ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ইসলাম সেগুলোকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে। অস্ত্র চালনা, লক্ষ্যভেদ এবং রণকৌশলের বিভিন্ন অনুশীলন এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি তীরের উসিলায় তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন—তীর প্রস্তুতকারী (যে সওয়াবের নিয়তে তা বানায়), তীর নিক্ষেপকারী এবং যে তাকে তীর এগিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করে।’ (জামে তিরমিজি: ১৬৩৭)

জুয়া, বাজি ধরা কিংবা ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়—এমন নিষিদ্ধ বিষয়গুলো পরিহার করে শরীর গঠন ও সুস্থ বিনোদনের উদ্দেশ্যে খেলাধুলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)