শাহারুল ইসলাম ফারদিন
, যশোর
শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় যশোরের কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমসহ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। তবে মাছ, মাংস, চাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। ফলে সংসারের বাজার করতে গিয়ে সবজি কেনার পর মাছ-মাংসের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
শুক্রবার সকালে শহরের বড়বাজার, পালবাড়ি কাঁচাবাজার ও চুড়ামনকাটি বাজার ঘুরে শীতকালীন সবজির সমাহার দেখা যায়। বাজারে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি। শিম ও গাজরের সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কয়েক ধরনের সবজি এখন কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
পালবাড়ি বাজারের সবজি বিক্রেতা ইউসুফ আলী জানান, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে মানভেদে তা গড়ে ৬০ টাকা। ৮০ টাকার ফুলকপি নেমে এসেছে ৫০ টাকায়। বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি; যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি পটল ৩০, ঢেঁড়স ৪০, বরবটি ৭০, কাঁচা মরিচ ৪০, শসা ৮০, কচুরমুখী ও লতি ৬০, মেচড়ি ৮০, ধন্দুল ৩০, কুশি ৫০, ঝিঙে ৬০, গাজর ১৪০, মিষ্টিকুমড়া ৫০ এবং উচ্ছে গড়ে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ১০০ ও বেগুনের দাম মোটামুটি ৬০ টাকা। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
বড়বাজারের সবজি বিক্রেতা আশীষ কুমার বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে অতিবৃষ্টিতে অনেক কৃষকের সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন মাঠ থেকে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। আড়তেও সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কমেছে। ক্রেতারাও আগের তুলনায় বেশি সবজি কিনছেন।
চুড়ামনকাটি এলাকার চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিতে কয়েক দফা চারা নষ্ট হওয়ায় কৃষকদের লোকসান হয়েছে। এখন উৎপাদন ভালো হওয়ায় আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারছেন তারা। তবে কৃষক ন্যায্য দাম পেলে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমলে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হবেন।
বাজার করতে আসা জাহিদ হাসান বলেন, কয়েক দিন আগেও সবজির দাম শুনে অনেক কিছু না কিনেই ফিরতে হতো। এখন ফুলকপি ও শিমসহ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে চাল, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের দাম না কমায় সংসারের খরচে তেমন পরিবর্তন আসেনি।
সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২২০, সোনালি ৩২০, লেয়ার ৩৪০ এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাস ১৮০, তেলাপিয়া ২২০, সিলভার কার্প ২৩০, রুই ৩২০, পাবদা ৩২০ এবং শিং ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ৮০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে। দেশি কই ৯০০ টাকা এবং বেলে মাছ এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
দিনমজুর মারুফ হাসান বলেন, বাজারে সবজি কিনতেই টাকার বড় অংশ শেষ হয়ে যায়। মাছের দাম বেশি হওয়ায় প্রতিদিন কেনা সম্ভব হয় না। অনেক দিন মাছ না কিনেই বাড়ি ফিরতে হয়।
পালবাড়ি বাজারের মাংস বিক্রেতা টিটো বিশ্বাস বলেন, পশুখাদ্য ও পশু পালনের খরচ বেড়েছে। খামারিদের কাছ থেকেও বেশি দামে গরু ও খাসি কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মাংসের দামে।
চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি মোটা চাল ৫৫, মিনিকেট ৬০, পাজাম ৫০, ব্রি আটাশ ৫৫, নাজিরশাইল ১০০ এবং জিরা মিনিকেট ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের কেজি ৫০ থেকে ৬০, আদা ২০০, দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৪০ এবং আমদানি করা রসুন ২০০ টাকা। শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি মুগ ডাল ১৮০, সরু মসুর ১৫০, মাঝারি মসুর ১০০, ছোলা ১২০ এবং চিনি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৯৫ টাকা। তবে ডিমের দাম খানিকটা বেশি—প্রতি পিস ১২ থেকে ১৪ টাকা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, বাজারে পণ্যের দাম ও বিক্রি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম, অতিরিক্ত দাম আদায় কিংবা ভোক্তা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।