যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

এমএম কলেজে ছাত্রলীগের নামে হুমকির অভিযোগ, বহিরাগতকে গণধোলাই

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুলাই,২০২৬, ১১:১৫ এ এম
আপডেট : রবিবার, ১২ জুলাই,২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
এমএম কলেজে ছাত্রলীগের নামে হুমকির অভিযোগ, বহিরাগতকে গণধোলাই

যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চন্দন নামে এক বহিরাগত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাস, জেনারেল হাসপাতাল চত্বর এবং শহরের দড়াটানা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমএম কলেজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসা চন্দন নামের ওই যুবক কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবার এলাকায় সক্রিয় হন। শনিবার রাত ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে অপর এক সহযোগীকে নিয়ে কলেজের আসাদ হলের সামনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এত রাতে ক্যাম্পাসে কেন এসেছেন জানতে চাইলে চন্দন ক্ষিপ্ত হয়ে চাকু বের করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের আমলে এমএম কলেজ যেভাবে চলতো, এখনও সেভাবেই চলবে। নতুন করে এই কলেজে কারও আধিপত্য চলবে না।' এ ঘটনায় মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে তাকে আটক করে পিটুনি দেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে আসাদ হলের সামনে থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতাল চত্বর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বর, দড়াটানা ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় প্রতিবাদ মিছিল করতে থাকেন।

প্রতিবাদ মিছিলে এমএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু, সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন, ছাত্রশিবির নেতা লিখন ও ইব্রাহিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সোইয়াব আক্তারসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এমএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু বলেন, রেলগেট এলাকার চন্দন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি টর্চার সেলের নেতৃত্ব দিতেন। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চলা চন্দন ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন অতিষ্ঠ ছিল। সম্প্রতি তারা আবারও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে বহিরাগতদের এনে হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে চন্দন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালে ভর্তি চন্দন বলেন, তার মোটরসাইকেলের পেছনে একজন বসা ছিল এবং তার হাতে সিগারেট ছিল। তা নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ৫০/৬০ জন হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে তিনি কখনোই সম্পৃক্ত ছিলেন না।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)